মেনু নির্বাচন করুন
পাতা

জেলা পরিষদের পটভূমি

 

      ১৮৫৭ খ্রিষ্টাব্দে সিপাহী বিদ্রোহের পর বৃটিশ সরকার এ দেশের শাসন ব্যবস্থায় স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের গুরুত্ব ওপ্রয়োজনীয়তা অনুভব করতে শুরু করে। এর প্রেক্ষিতে ১৮৭০ খ্রিষ্টাব্দের ৬নং এ্যাক্ট ও১৮৭১ খ্রিষ্টাব্দে ১নং এ্যাক্ট অনুসারে যথাক্রমে ভিলেজ চৌকিদারী এ্যাক্ট ওবেংগল ভিলেজ চৌকিদার এ্যাক্ট প্রবর্তিত হয়। ১৮৮২ খ্রিষ্টাব্দে লর্ড রিপন কর্তৃক স্থানীয় স্বায়ত্ব শাসনের প্রস্তাব কার্যকর করার লক্ষ্যে ১৮৮৫ খ্রিষ্টাব্দে বেংগল কাউন্সিল ৩নং লোকাল সেলফ গভর্নমেন্ট এ্যাক্ট পাস করে। এ আইনের ভিত্তিতে তিন স্তর বিশিষ্ট স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান প্রবর্তন করা হয়। প্রত্যেক জেলায় জেলা বোর্ড, মহকুমা পর্যায়ে লোকাল বোর্ড ও কয়েকটি গ্রামের জন্য ইউনিয়ন কমিটি গঠিত হয়। ১৮৮৭ খ্রিষ্টাব্দে রংপুর জেলা বোর্ড প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৩৪ খ্রিষ্ঠাব্দে প্রকাশিত সিডিউল অব পাবলিক ওয়ার্ক এ বর্ণিত কিছু উন্নয়ন এবং জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের দায়িত্ব জেলা বোর্ডকে অর্পণ করা হয়েছিল। যেমন-শিক্ষা, যোগাযোগ ব্যবস্থা, স্বাস্থ্য ও স্বাস্থ্য বিধান, ফেরী পারাপার, ভ্রমণকারী ও পর্যটকদের জন্য ডাকবাংলো ও সরাইখানা প্রতিষ্ঠা ও রক্ষণাবেক্ষণ করা ইত্যাদি।

      ১৯৮৪ খ্রিষ্টাব্দে প্রশাসন বিকেন্দ্রীকরন পর্যায়ে সাবেক মহকুমাগুলোকে জেলায় রুপান্তর করা হলে ২২টি সাবেক জেলা পরিষদসহ মোট জেলা পরিষদের সংখ্যা দাঁড়ায় ৬৪টি। সরকার জেলা পরিষদ আইন-১৯৮৮ প্রণয়ন করে ৬৪টি জেলা পরিষদের মধ্যে ৩টি পার্বত্য জেলা পরিষদ ব্যতীত ৬১টি জেলা পরিষদে চেয়ারম্যান নিযুক্ত করেন।

      পরবর্তীতে সরকার জেলা পরিষদ সংক্রান্ত পূর্ববর্তী আইন রহিত করে জেলা পরিষদ আইন-২০০০ প্রণয়ন করেন এবং কার্যকর করেন। বর্তমানে পূর্ণাংগ পরিষদ গঠিত না হওয়ায় পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পরিষদে দৈনন্দিন কার্যাবলী পরিচালনা করেছেন।  বিভিন্ন বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য সরকারের নির্দেশের আলোকে জেলা পরিষদ উন্নয়ন সমন্বয় কমিটি গঠন হয়েছে। উক্ত কমিটি উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে থাকে। উল্লেখ্য যে, স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রজ্ঞাপন নং 46.042.033.03.00.147.2011-4173 তারিখ : 15/12/2011 খ্রি: মোতাবেক জেলা পরিষদ আইন, ২০০০ (২০০০ সনের ১৯ নং আইন) এর ৮২(১) ধারা অনুযায়ী সরকার বাংলাদেশের সকল জেলা পরিষদের ন্যায় রংপুর জেলা পরিষদে জনাব এড: আলহাজ্ব রেজিনা বেগমকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ প্রদান করেন।

জেলা পরিষদের কার্যাবলী:

জেলা পরিষদ নিম্নোক্ত কার্যাবলী সম্পাদন করে থাকে :-

বাধ্যতামূলক কার্যাবলী:

১)   জেলার সকল উন্নয়ন কার্যক্রমের পর্যালোচনা।

২)   উপজেলা পরিষদ ও পৌরসভা কর্তৃক গৃহীত উন্নয়ন প্রকল্পসমূহের কার্যক্রম পর্যালোচনা।

৩)   সাধারণ পাঠাগারের ব্যবস্থা ও রক্ষণাবেক্ষণ।

৪)   উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা বা সরকার কর্তৃক সংরক্ষিত নহে এই প্রকার জনপথ, কালভার্ট ও ব্রীজ-এর নির্মাণ/সংরক্ষণ 

     ও উন্নয়ন।

৫)   রাস্তার পার্শ্বে ও জনসাধারণের ব্যবহার্য স্থানে বৃক্ষ রোপন ও উহার সংরক্ষণ।

৬)   জনসাধারণের ব্যবহারার্থে উদ্যান, খেলার মাঠ ও উন্মুক্ত স্থানের ব্যবস্থা/রক্ষণাবেক্ষণ।

৭)   সরকারী, উপজেলা পরিষদ বা পৌরসভার রক্ষণাবেক্ষণের নহে এমন খেয়াঘাটের ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণ।

৮)   সরাইখানা, ডাকবাংলো এবং বিশ্রামাগারের ব্যবস্থা ও রক্ষণাবেক্ষণ।

৯)   জেলা পরিষদের অনুরুপ কার্যাবলী সম্পাদনরত অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সংগে সহযোগিতা।

১০)  উপজেলা ও পৌরসভাকে সহায়তা, সহযোগিতা এবং উৎসাহ দান।

১১)  সরকার কর্তৃক জেলা পরিষদের উপর অর্পিত উন্নয়ন পরিকল্পনার বাস্তবায়ন।

১২)  সরকার কর্তৃক আরোপিত অন্যান্য কাজ।

ঐচ্ছিক কার্যাবলী:

১)  শিক্ষা : ছাত্র বৃত্তির ব্যবস্থা, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, বিদ্যালয় স্থাপন ওরক্ষণাবেক্ষণ, বই প্রকাশনা ও ছাপাখানা রক্ষণাবেক্ষণ

    ইত্যাদি।

২)  সংস্কৃতি : তথ্য কেন্দ্র স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণ, সাধারণ সাংস্কৃতিমূলক কর্মকান্ড সংগঠন, পাবলিক হল কমিউনিটি সেন্টার 

    এবং জনসভার জন্য স্থানের ব্যবস্থা, মহানবী (সা:) এর জন্ম দিবস, জাতীয় দিবস, জাতীয় শোক দিবস, শহীদ দিবস

    ও অন্যান্য জাতীয় অনুষ্ঠান উদযাপন, বিশিষ্ট অতিথিগণের অভ্যর্থনা সংস্কৃতি উন্নয়নমূলক অন্যান্য ব্যবস্থা।

৩)  সমাজ কল্যাণ : দু:স্থ ব্যক্তিদের জন্য কল্যাণ সদন, আশ্রয় সদন, এতিমখানা, বিধবা সদন এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠান স্থাপন

    ও রক্ষণাবেক্ষণ, মৃত নি:স্ব ব্যক্তিদের দাফনের ও অন্ত্যোষ্টিক্রিয়ার ব্যবস্থা করা, ভিক্ষাবৃত্তি, পতিতাবৃত্তি, জুয়া, মাদকসেবন, 

    কিশোর অপরাধ ইত্যাদি সামাজিক অনাচার প্রতিরোধ।

৪)  অর্থনৈতিক কল্যাণ : আদর্শ কৃষিখামার স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণ, উন্নত কৃষি পদ্ধতি জনপ্রিয় করন, কৃষি যন্ত্রপাতি সংরক্ষণ

    ও পতিত জমি চাষের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ, বপনের উদ্দেশ্যে বীজের ঋণ দান, বাঁধ নির্মাণ ও মেরামত, কৃষিকার্যে ব্যবহার্য

    পানি সরবরাহ ও নিয়ন্ত্রণ, গ্রাম অঞ্চলে বনভূমি সংরক্ষণ, শিল্পের জন্য কাঁচামাল সংগ্রহ, শিল্প স্কুল স্থাপন, গ্রামভিত্তিক

    শিল্পের জন্য শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ প্রদান ইত্যাদি।

৫)  জনস্বাস্থ্য : স্বাস্থ্য বিষয়ক শিক্ষার উন্নয়ন প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণ, ভ্রাম্যমান চিকিৎসকদল গঠন,

    কম্পাউন্ডার, নার্স ও চিকিৎসা কর্মীদের কাজ ও ডিসপেনসারী পরিদর্শন, জনস্বাস্থ্য, পশুপালন ও পাখী কল্যাণ উন্নয়নের

    জন্য অন্যান্য ব্যবস্থা গ্রহণ ইত্যাদি।

৬)  গণপূর্ত: যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি সাধন, পানি নিষ্কাশন, পানি সরবরাহ ব্যবস্থা, স্থানীয় এলাকার নক্সা প্রণয়ন ইত্যাদি।

৭)  সাধারণ : স্থানীয় এলাকা ও উহার অধিবাসীদের ধর্মীয়, নৈতিক ও বৈষয়িক উন্নতি সাধনের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ।